December 2014

এই শীতে শরীরে উষ্ণতা দেবে যে ৭টি সুস্বাদু খাবার
বিডিলাইভ ডেস্ক: হুট করেই শীতটা যেন জাঁকিয়ে বসেছে। শীতকাল আসতে না আসতেই হাড় কাঁপানো শীত মনে হচ্ছে। বাইরে বেরুলে ইদানীং শীতের কাপড় গায়ে জড়িয়েই বের হতে হয়। কিন্তু ভেবেছেন কি ,এখনই এই অবস্থা হলে শীতের মাঝামাঝি সময়ে কী অবস্থা হবে? তবে আপনি কিন্তু বেশ সহজেই শরীরটাকে গরম রাখতে পারবেন। ভাবছেন কীভাবে? যদি শীতেও উষ্ণতা পেতে চান তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিশেষ কিছু খাবার রাখুন। এই খাবারগুলো শীত তাড়িয়ে দেবে নিমেষেই।

১. আপেল
একটি মাঝারি আকারের আপেলে রয়েছে প্রায় ৪.৪ গ্রাম ফাইবার। আপেলের স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার দুটোই আমাদের দেহের উষ্ণতা ধরে রাখতে সক্ষম। এছাড়াও আপেলে রয়েছে ৮৬% পানি যার ফলে আমরা শীতে কম পানি পান করলেও আমাদের দেহকে সঠিকভাবে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করবে।

২. ওটমিল
শীতকালে উষ্ণতা পাওয়ার সবচাইতে কার্যকরী খাবার হচ্ছে ওটমিল। এটি হোল গ্রেইন, সুতরাং এতে আপনার দেহে পৌঁছাবে ফাইবার এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন যা দেহের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সহায়তা করবে। এছাড়াও ওটমিলে রয়েছে বেটা-গ্লুকেন নামক স্টার্চ যা আমাদের দেহের খারাপ কলেস্টোরল কমাতে সহায়তা করে।

৩. হট চকলেট
চকলেট সবসময়েই আমাদের দেহ উষ্ণ করতে সহায়তা করে থাকে। হট চকলেট পান করার মাধ্যমে আপনি কনকনে শীতেও খুঁজে পাবেন উষ্ণতা। জার্নাল অফ ইমিউনোলজি রিসার্চে প্রকাশিত হয়, ‘ফ্লেভানোয়েড সমৃদ্ধ কোকোয়া আমাদের দেহের লাল রক্ত কণিকাকে উদ্দীপিত করে’। আর একারণেই আমরা উষ্ণতা অনুভব করে থাকি।

৪. স্যুপ
শীতকালে স্যুপ পানের ফলে উস্নতার পাশাপাশি স্বাদ ও স্বাস্থ্য দুটোর প্রতিই বেশ ভালো নজর দেয়া যায়। বিশেষ করে তা যদি কুমড়োর স্যুপ হয়ে থাকে। শরীর গরম রাখতে শীতের সন্ধ্যায় খেতে পারেন স্যুপ জাতীয় খাবার।

৫. মরিচ
মরিচে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীর থেকে ঠাণ্ডার অনুভূতি দূর করতে সাহায্য করে, সর্দি এবং কফ কমায়। মরিচের ঝাল একটু বেশি দিয়ে খাবার রান্না করে খেয়ে দেখুন, দেখবেন শীত কতো দ্রুত পালিয়ে গিয়েছে।

৬. মিষ্টি আলু
শীতকালের এই সবজিটিরও রয়েছে শীত দূর করার ক্ষমতা। ফাইবার, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন সমৃদ্ধ এই মিষ্টি আলুকে বলা হয় সুপারফুড যার রয়েছে দেহকে নানা ধরণের রোগ থেকে মুক্ত রাখার পাশাপাশি শীত তাড়ানোর বিশেষ ক্ষমতা।

৭. আদা চা
আদা আমাদের দেহের রক্তের সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এতে করে আমাদের দেহের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় ও শীত দূরে পালায়। এই আদা খালি না খেয়ে শীতকালে আদা চা তৈরি করে পান করলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। এছাড়াও শীতকালীন সর্দি, ঠাণ্ডা, কাশি দূর করতেও আদা চায়ের জুড়ি নেই।
Credit : http://www.bdlive24.com/


সাধারণ লবণ দিয়ে ম্যাজিকের মত দূর করুন মাইগ্রেনের যন্ত্রণাবিডিলাইভ ডেস্ক: মাইগ্রেনের ব্যথা একবার শুরু হলে তা নষ্ট করে দিতে পারে পুরোটি দিন। শুধু তাই নয়, কারও কারও মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণ পেইনকিলারে দূর হতে চায় না। কী করবেন তারা? তাদের উপকারে আসতে পারে লবণ।
কি করে ব্যবহার করবেন লবণ?

মাইগ্রেনের ভুক্তভোগী হয়ে থাকলে আপনি নিশ্চয়ই এরই মাঝে মাইগ্রেন কমানোর অনেকগুলো উপায় পরখ করে দেখেছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। মাইগ্রেনের ব্যথা একবার শুরু হলে কোনো রকম পেইন কিলারই কাজ করে না। পেইন কিলার আবার অনেকে পছন্দও করেন না, অথবা স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে পেইন কিলারের ব্যবহারে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু লবণের ব্যবহার কাজ করতে পারে আপনার ক্ষেত্রেও।

প্রথমেই জেনে রাখা দরকার, লবণ ব্যবহার করা উচিত নয় কার। মাইগ্রেনের ব্যাথা চলাকালীন সময়ে অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যায়। লবণ ব্যবহারে তাদের রক্তচাপ আরও বেড়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে সেলেরির জুস পান করতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে এমন সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়ায় না আবার মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে।

লবণ ব্যবহার করে মাইগ্রেন কমাতে চাইলে অবশ্য সাধারণ মানের টেবিল সল্ট ব্যবহার না করে উচ্চ মানের লবণ ব্যবহার করতে হবে, যেমন হিমালায়ান ক্রিস্টাল সল্ট। এর বিশেষত্ব হলো এতে উপস্থিত ৮৪টি খনিজ উপাদান, ইলেক্ট্রোলাইট এবং মৌল। এই লবণ শুধু যে মাইগ্রেন কমায় তাই নয়, বরং শক্তিশালী করে তোলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে, বাড়ায় শক্তি, রক্তে সেরোটোনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে, শরীরে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখে।

আর লবণ ব্যবহারের এই উপায়টি ভারি সহজ। এক গ্লাস লেবুর রস (অথবা আপনার পছন্দের কোনো ফলের জুস) এর মাঝে বেশি করে লবণ দিয়ে তৈরি করুন একটি মিশ্রণ আর তা পান করে ফেলুন। মাইগ্রেনের ব্যথা দূর হয়ে যাবে ম্যাজিকের মতো।

তবে অবশ্যই কী পান করছেন তার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অবশ্যই লবণের এই মিশ্রণ পান করা উচিত নয়। এছারা যাদের আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারাও লেবু বা এমন অ্যাসিড ধরণের জুস পান করা থেকে বিরত থাকবেন। Credit : http://www.bdlive24.com/

চুলপড়া রোধে ভীষণ কার্যকরী ৫টি খাবার
বিডিলাইভ ডেস্ক: মানুষের ফ্যাশনের একটা বড় বিষয় নির্ভর করে চুলের উপর। চুল সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন রাখতে মানুষ কত কিছুই না করে। তারপরও অনেকের চুল পড়ে। চুল পড়া রোধ করতে নানান থেরাপির প্রয়োগ করেন অনেকে। কিন্তু আপনি কি জানেন আপনার প্রিয় চুল পড়া রোধ করতে এত থেরাপি বা ওষুধ খেতে হবেনা? আপনি নিয়ম করে কিছু প্রাকৃতিক খাবার খেলেই আপনার চুল পড়া অনেক কমে যাবে। জানতে হলে বিস্তারিত পড়ুন……

সম্প্রতি লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন তাদের এক প্রতিবেদনে জানায় মানুষের চুল পড়া রোধে কিছু প্রাকৃতিক খাবার খেলেই সুফল পাওয়া যায়। আপনি যদি এসব প্রাকৃতিক খাবার নিয়ম করে খেতে থাকেন তাহলে আপনার চুল পড়া অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং আপনাকে বাথরুমে গোসলের পর আর আয়নায় হালকা চুলের মাথার দিকে তাকিয়ে মন খারাপ করতে হবেনা। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক চুল পড়া রোধ করে এমন প্রাকৃতিক খাবার কি কি?

ডিমঃ
ডিম হচ্ছে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। ডিম খেলে আপনার চুল পড়া কমবে এবং এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে কারণ আমাদের চুল প্রাথমিক ভাবে প্রোটিন কোষ থেকেই তৈরি হয়। আপনি যদি নিয়মিত ডিম খান তাহলে আপনার চুল পড়া তো কমবেই সাথে সাথে আপনার চুল হবে সুন্দর ও সিল্কি। আমরা ডিমে প্রোটিন আছে তাই খেতে বলেছি আপনি আবার অন্য সব প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশী বেশী গ্রহন শুরু করবেন না। কারণ প্রোটিন ও ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার খেলে আপনার শরীরে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে তা ছাড়া প্রোটিন আপনার চুলের জন্য ভালো, ফ্যাট নয়। একজন পূর্ণ বয়স্ক পুরুষের জন্য দৈনিক ৫০ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। এসব প্রোটিন আপনি ডিম, মুরগী, মাছ ইত্যাদি থেকে পেতে পারেন।

অঙ্কুরিত মটরশুটিঃ
অঙ্কুরিত মটরশুটিতে রয়েছে এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যাকে সিলিকা বলা হয়। সিলিকা চুল পড়া রোধে বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। সিলিকা মিনারেল ও ভিটামিন শুষেনেয়। মাথায় চুল গজায় নতুন নতুন কোষ থেকে। সিলিকা আপনার মাথায় এসব নতুন কোষ তৈরি হতে সাহায্য করে। আপনি সিলিকার জন্য আঙ্কুরিত মটরশুঁটি সাথে শসা এবং লাল ও সবুজ মরিচ খেতে পারেন।

গাজরঃ
ভিটামিন এ মানুষের মাথায় চুল গজাতে সাহায্য করে, গাজরে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ রয়েছে। গাজর খাওয়ার ফলে আপনার শরীরে ভিটামিন এ এর ঘাটতি কমে এবং ভিটামিন এ আপনার চুল পড়া রোধ করে আপনাকে দেয় সুস্থ ও উজ্জ্বল ঝলমলে চুল। এ ছারাও সকল প্রকার সবুজ শাঁক সবজী খেলে আপনার চুল পড়া অনেক অংশে কমে যাবে।

সামুদ্রিক মাছঃ
অনেক মানুষ আছে যাদের চুল পড়া রোগ রয়েছে তাঁদের মাঝে দেখা গেছে জিঙ্কের ঘাটতি। প্রচুর জিঙ্ক পাওয়া যায় সামুদ্রিক মাছে তাই আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ রাখতে পারেন এতে আপনার শরীরের জিঙ্কের অভাব প্রাকৃতিক ভাবেই পুরন হতে পারবে এবং আপনি চুল পড়া থাকে রেহাই পেতে পারেন। এছারাও সামুদ্রিক মাছে ফ্যাটি এসিড ও রয়েছে চুল ও আপনার স্কাল কে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বাদাম এবং কিশমিশঃ 
আইরন আপনার শরীরে হিমোগ্লোবিন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। রক্তে পর্যাপ্ত পরিমাণ হিমোগ্লোবিন থাকলে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ সঠিক থাকে। এতে করে আপনার চুলের বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকে। আপনি আইরন পেতে চাইলে মিষ্টি ফল যেমন কিশমিশ, খেজুর, বাদাম জাতীয় শুকনো খাবার খেতে পারেন।

ভিটামিন সি ও আপনার চুল পড়া রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে তাই আপনি ভিটামিন সি আছে এমন ফল কমলা, স্ট্রবেরি, লেবু খেতে পারেন।

সব শেষে পরিমিত ভাবে সকল প্রকার খাবার গ্রহন করুন এতে আপনার শরীর পরিপুষ্ট পুষ্টি উপাদান পাবে। সুস্থ থাকুন সব সময় প্রফুল্ল থাকুন

ব্রেইন স্ট্রোক: কারণ ও প্রতিকার
বিডিলাইভ ডেস্ক: মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র অনেকের কাছেই অজানা একটি বিষয়। এর মধ্যে ব্রেইন স্ট্রোকের বিষয়টি মস্তিষ্কের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় এটিই।

মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের পরিমাণ আকস্মিকভাবে হ্রাস পাওয়াকেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেইন স্ট্রোক বলা হয়। মস্তিষ্ক কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ এবং পুরো শরীরের চালিকা শক্তি। মস্তিষ্কের কোষকলা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য মস্তিষ্কে রক্তের মাধ্যমে অবিরাম অক্সিজেন এবং গ্লুকোজ সরবরাহ জরুরি। কোন কারণে মস্তিষ্কের কোন অংশে রক্ত প্রবাহ হ্রাস পেলে মস্তিষ্কের কোষকলার মৃত্যু ঘটে এবং শরীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক কার্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি হয়।

কারণ : বিভিন্ন কারণে ব্রেইন স্ট্রোক দেখা দিতে পারে। মস্তিকের মধ্যস্থ কোন ধমনী বা শিরা সরু হয়ে গেলে অথবা কোন কারণে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে রক্তপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে যে স্ট্রোক হয় তাকে ‘ট্রানজিয়েন্ট ইসকেমিবা অ্যাটাক’ বলা হয়। বেশির ভাগ রোগী এ ধরনের স্ট্রোকেই আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে কখনও কখনও মস্তিষ্কের মধ্যস্থ কোন অংশ বা মস্তিষ্ক এবং খুলির মধ্যবর্তী কোন অংশ বা শিরা থেকে রক্তপাত ঘটার কারণেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এ ধরনের স্ট্রোককে ‘হেমোরেজিক স্ট্রোক’ বলা হয়।

‘ইসকেমিক’ স্ট্রোক ক্ষণস্থায়ী হয় এবং এক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যে রোগের লক্ষণ থেকে মুক্তি লাভ করতে দেখা যায়। একবার ‘ইসকেমিক’ স্ট্রোকে আক্রান্তদের আবার একই ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেশি থাকে, পরবর্তীতে এদের হেমোরেজিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও বেশি। ‘হেমোরেজিক স্ট্রোকে’ আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার কারণে স্ট্রোকজনিত লক্ষণসমূহ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে এবং চিকিৎসা লাভের পরও শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে অনেক ক্ষেত্রেই কিছু সময় লাগে এবং কোনও কোনও সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেখা যায়।

মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি সাধিত হওয়ার কারণে সাধারণত মাথার যেদিক আক্রান্ত হয় তার বিপরীত দিকের শরীরের অংশ বা অংশ বিশেষ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে বা নড়াচড়ায় নিয়ন্ত্রণহীনতা দেখা দেয়, স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তির ক্ষতি সাধিত হয়, ভাষা ব্যবহারে এবং বুঝতে অসুবিধা হয়, আবেগের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা এবং ব্যথাসহ স্নায়ুবিক সমস্যা দেখা দেয়ার আশংকা থাকে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। রোগীর সেরে ওঠার মাত্রা নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোন অংশের কতটা কোষকলা ধ্বংসপ্রাপ্ত বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার ওপর।

তবে যে কোনও ধরনের স্ট্রোকই হোক না কেন চিকিৎসা লাভের ক্ষেত্রে যত বেশি কালক্ষেপণ হয় ততই তা জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি সাধিত হওয়ার আশংকাও বেশি থাকে। তাই লক্ষণের প্রকাশ দেখা গেলেই তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় এনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসার আওতায় আনা উচিত।

কাদের ঝুঁকি বেশি : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার আশংকা বাড়তে থাকে বিশেষ করে ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি বেশি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে উচ্চমাত্রার কোলস্টেরল বা হূদযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত এবং ধূমপায়ীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেশি। কোকেনজাতীয় মাদকসেবনের ফলে ৫০ বছরের চেয়ে কম বয়সীদেরও কখনও কখনও রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

লক্ষণ : রোগের লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে এ রোগের কারণে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক এবং মানসিক কিছু জটিল সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব এবং সেই সঙ্গে মৃত্যু ঝুঁকিও অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সূচকের ওপর নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে লক্ষণের পার্থক্য দেখা দেয়।

‘ইসকেমিক’ এবং ‘হেমোরেজিক’ উভয় স্ট্রোকের একই ধরনের লক্ষণ হতে পারে। প্রধান লক্ষণ হল কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়া। তাই হঠাৎ বয়স্ক কারও শব্দ চয়নে অসুবিধা বা কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। হাতের আঙুল, পায়ের পাতা, শরীরের একদিকের হাত বা পা নাড়াতে কষ্ট হওয়া, মুখমণ্ডল নাড়ানোর ক্ষেত্রে অসুবিধা বা মুখের একদিকের মাংসপেশিতে অসাড়তা দেখা দেয়া, আগে কখনও অনুভূত হয়নি হাত বা পায়ে এমন ধরনের ভার বোধ হওয়া, খিল ধরে যাওয়া, অসাড়তা দেখা দেয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। এ ধরনের সমস্যাগুলোর তীব্রতা মাঝারি থেকে প্রবল হয়ে উঠতে পারে। দৃষ্টিশক্তি ঝাঁপসা হয়ে পড়া, ঝিমুনি ভাব, শরীরের ভারসাম্য অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়া, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বমি হওয়া, মলমূত্র নিয়ন্ত্রণে সমস্যা ইত্যাদিও এ রোগের লক্ষণ। কারও কারও ক্ষেত্রে মানসিক বিভ্রম বা বিষণ্নতাও দেখা দিতে পারে।

রোগ নির্ণয় : কোন ব্যক্তি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা ঘরে বসে নির্ণয় করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে রোগীর হাসতে অসুবিধা হচ্ছে কি না বা হাসতে গেলে গাল বা চোখ বেঁকে বা কুঁচকে যাচ্ছে কিনা, রোগী দু’হাত উপরে ওঠাতে এবং সোজা অবস্থায় ধরে রাখতে পারছে কিনা অথবা রোগী সঠিকভাবে কথা বলতে এবং বুঝতে পারছে কিনা তা পরীক্ষা করা যেতে পারে। যে কোনও একটি লক্ষণের প্রকাশ ঘটলেই রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

হাসপাতালে রোগীর স্ট্রোকের ধরন ও আক্রান্ত স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য সাধারণত ‘কমপিউটেড টমোগ্রাফি (সিটি)’ বা ‘ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) করা হয়। এছাড়া আনুষঙ্গিক আরও বিভিন্ন ধরনের কিছু পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা : অসুখের ধরন জেনে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ‘ইসকেমিক’ স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ‘অ্যাসপিরিন’ বা অন্য কোন ধরনের রক্ত পাতলা করার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কখনও কখনও শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে এ ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয় এমনকি ক্যাথেটারের সাহায্যে তা সরাসরি মস্তিকেও প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

কোনও কোনও ক্ষেত্রে জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণ করার জন্য বা সরু হয়ে যাওয়া শিরার প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য মস্তিষ্কে অপারেশন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কখনও কখনও হূৎপিণ্ডের ন্যায় এক্ষেত্রেও এনজিওপ্লাস্টি প্রক্রিয়ায় ‘স্ট্যান্টিং’ করার ব্যবস্থাও করা হয়।

‘হেমোজেরিক’ স্ট্রোকের ক্ষেত্রে রক্তপাত বন্ধ ও মস্তিষ্কের চাপ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত শিরা মেরামত করার লক্ষ্যে অপারেশন করার প্রয়োজনীয়তাও দেখা দেয়। জটিল ক্ষেত্রে শিরার কিছুটা অংশ কেটে ফেলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে যতটা সম্ভব রোগী যেন স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারে সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হয়।

পুনর্বাসন : চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই রোগী যেন অন্যের সাহায্য ছাড়া নিজস্ব দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে বয়স, স্বাস্থ্য এবং ক্ষতির পরিমাণ ভেদে বিভিন্ন মাত্রায় পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এগুলোর মধ্যে ‘ফিজিওথেরাপি’, শরীরচর্চা, ভাষা ব্যবহারে সাহায্য করা বা বিকল্প পদ্ধতিতে মনের ভাব প্রকাশের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া মানসিক সুস্থতা লাভের ব্যাপারেও বিশেষ মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন থাকে।

ড. জাকিয়া বেগম
পরমাণু বিজ্ঞানী ও মেডিকেল ফিজিসিস্ট

সেদিন এক দম্পতি প্রায় মারামারি করতে করতে চেম্বারে ঢুকলো। মারামারির বিষয় ইনসুলিন। মেয়েটার বাবার ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেক বেশি, তাকে এক ডায়াবেটিসের চিকিৎসক ইনসুলিন দিয়েছে; কিন্তু মেয়ে ও মেয়ের বাবা কেউ ইনসুলিন নিতে রাজি নন। কারণ তাদের ধারণা একবার ইনসুলিন নিতে শুরু করলে সারা জীবন ইনসুলিন নিতে হবে। তাদের পাশের বাসার চাচার ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে ২০ বছর হলো, এতদিন ওষুধ খেতেন; কিন্তু কিছুদিন আগে তাকে ইনসুলিন দেয়া হয়েছে এবং এখন ডাক্তার বলছেন যে, তাকে সারা জীবন ইনসুলিন নিতে হবে, সুতরাং তার বাবাকে একবার ইনসুলিন দেয়া শুরু করলে সারা জীবন ইনসুলিন নিতে হবে, তারা তাই ইনসুলিন নিতে রাজি নন। মেয়েটার জামাই মেয়েটাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছে আমি যেন তাদের ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যেই আছে যে, একবার ইনসুলিন শুরু করলে সারা জীবন ইনসুলিন নিতে হবে। কথাটি একটুও সত্যি নয়, ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হলে। সেকেন্ডারি ড্রাগ ফেইলোর, টাইপ-১ ডায়াবেটিস, জরুরি অপারেশন, গর্ভাবস্থায় ও ল্যাকটেটিং মাদার, কোনো কারণে মুখে খাবার ওষুধ (যেমন_ কিডনি ফেইলোর) না দেয়া গেলে, এসব ক্ষেত্র ছাড়া অন্যান্য যেকোনো ক্ষেত্রে ইনসুলিন থেকে অনায়াসে আমরা পরে মুখে খাবার ওষুধে চলে যেতে পারি।

ডায়াবেটিস সম্পর্কে আমাদের ভুল ধারণাগুলো হলো :

শুধু ধনীদের ডায়াবেটিস হয়।

শুধু বয়স্কদের ডায়াবেটিস হয়।

শুধু শহরের লোকদের ডায়াবেটিস হয়।

ডায়াবেটিস ছোঁয়াছে।

ডায়াবেটিস একটি অভিশাপ।

শারীরিক মিলনে ডায়াবেটিস হয়।

শুধু মোটা লোকদের ডায়াবেটিস হয়।

ডায়াবেটিস হলে মাটির নিচের খাবার খাওয়া যায় না।

ডায়াবেটিস হলে বিশেষ ধরনের খাবার খেতে হয়।

টক ও তিতা জাতীয় খাবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে এলে ডায়াবেটিস ভালো হয়ে যায়। একবার ইনসুলিন নিতে শুরু করলে সারা জীবন ইনসুলিন নিতে হয়।

ইনসুলিন নিলে যৌন ক্ষমতা কমে যায়।

ইনসুলিন নিলে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।

শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলেই শুধু ইনসুলিন নিতে হয়। ইনসুলিন নেয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত মহিলাদের গর্ভধারণ করা উচিত নয়। ডায়াবেটিস আক্রান্ত মায়ের সন্তান ডায়াবেটিস নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

উপরের কথাগুলো সবই ভ্রান্ত এবং একটিও সত্য নয় ।



ডা. মফিজুর রহমান রাজীব

হৃদরোগ, ফ্যামিলি মেডিসিন ও ডায়াবেটিস চিকিৎসক

খিলগাঁও ডায়াবেটিক ও স্পেশালাইজড ডক্টর'স চেম্বার

আমাদের দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন গ্রাহক ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ফোন যতটা কার্যকরী আবার এটির অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য ঠিক ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। আর এটি শরীরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে আমাদের ঘুমের ওপর। এক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত কথা বলা ও একটানা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহারে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব গুটেনবার্গের গবেষক সারা থমি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে এর স্বাস্থ্যকর ব্যবহার জানতে হবে। সারা তার সঙ্গীদের নিয়ে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ওপর কয়েকটি গবেষণা চালান।

গবেষকদের চারটি দলে ভাগ করেন তিনি। প্রথম দলটি মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহারকারী ও দ্বিতীয় দলটি স্বাভাবিক ব্যবহারকারীদের ওপর পর্যবেক্ষণ করে। তৃতীয় দলটি অতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহারকারী এবং চতুর্থ দলটি স্বাভাবিক ব্যবহারকারীদের পর্যবেক্ষণ করে। সারা বলেন, প্রায় এক বছর পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায়, যারা অতিরিক্ত কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে আর এ সংখ্যা তরুণদের মধ্যেই বেশি। তিনি জানান, যারা মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত কথা বলেন এবং কম্পিউটার ব্যবহার করেন তাদের অনিদ্রাসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় এবং তারা বেশি মাত্রায় বিষণ্নতায় ভোগেন। অনেকেই আবার এ বিষণ্নতার কারণে আত্মহননসহ নানা ধ্বংসাত্মক কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। যারা রাত জেগে একটানা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহার করেন বা মোবাইল চালনা করেন তাদের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। গবেষণা শেষে গবেষকরা প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণকে সতর্ক করেন। তাই আমাদের তরুণ প্রজন্মের এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি আমাদের যেমন প্রয়োজন আবার প্রযুক্তির অতিরিক্ত আসক্তি সমাজ ও শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আসুন, আমরা নিজেরা মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অন্যকেও এর অতিরিক্ত ব্যবহারে সচেতন করে তুলি। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছুর অতিরিক্ত আসক্তি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।



ডা. মহসীন কবির

জনস্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক ও গবেষক

প্রভাষক, ইনস্টিটিউট অব জেরিয়েট্রিক মেডিসিন

mohsinkabir13@gmail.com

কোলেস্টেরল রক্তের এমন এক উপাদান যা রক্তনারী দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে চলাচল করে। আমাদের শরীরের নানান অঙ্গ রক্ত থেকে কোলেস্টেরল সংগহ করে ও বিভিন্ন হরমোন ও দরাকারী উপাদন তৈরী করে। এক কথায়, কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের চর্বি জাতিয় রক্তের উপাদান যা শরীরের নির্দিষ্ট পরিমান থাকা প্রয়োজন কিন্তু অতিরিক্ত কোলেস্টেরল রক্ত নানীতে জমে গিয়ে নানার সমস্যার সৃষ্টি করে।
রক্ত নালীতে কোলেস্টেরল জমে গেলে রক্ত চালাচলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় , ফলে দেখা দেয় নানান সমস্যা, যেমন- হার্টের রক্তনানীতে জমে গেলে বুক ব্যথা দেখা দেয়, হার্ট অ্যাটাক হয় ; মস্তিস্কের রক্তনালীতে জমে গেলে স্ট্রোক ; কিডরি রক্তনানীতে জমে গেলে কিডনি ফেইলর, এরকম হাজার রোগের জন্ম নিতে পারে শুধু মাত্র অতিরিক্ত কোলেস্টেরল এর জন্য।
সুতরাং কিভাবে আমরা শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্র নিয়ন্ত্রন করতে পারি তা জেনে রাখা আমাদের খুব জরুরী, প্রতমত আমাদের কিছু কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত , ঔষধ সেবন করে আমার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন:
প্রতিদিনের খাদ্যের তালিকায় শাকসবজির পরিমান বাড়াতে হবে, বেশি বেশি ফল ও আসযুক্ত খাবার খেতে হবে। যতটা সম্ভব খোসাসহ সবজি খাবেন, এতে ভিটামিন বেশি পাওয়া যাবে। প্রানিজ চর্বি খাওয়া বাদ দিতে হবে যেমন- খাসির মাংস, গরুর মাংস, মুরগীর চামড়া, কলিজা, মগজ, মাছের ডিম, ডিমের কুসুম, চিংড়ি মাছ ইত্যাদি।
রান্নায় তেল কমাতে হবে, তেলে ভাজা খাবার বেশি খাওয়া যাবে না, ভাপে সিদ্ধা ও গ্রিলড টাইপের খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। ঘি , মাখন, পনির, মেয়নেজ, ড্রিংস খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। রিফাইল্ড করা খাবার বাদ দিতে হবে, যেমন জুসের বদলে ফল ও ভুসসহ লাল আটা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে:
সপ্তাহে কমপক্ষে ৫দিন ৪০ মিনিট করে জোরে জোরে হাটতে হবে। বাসার টুকি টাকি কাজ নিজের হাতে করার অভ্যাস করতে হবে। কাছের জায়গা গুলোতে রিকশায় না গিয়ে হেটে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। ধূমপান, তামাক ইত্যাদি নেশা বাদ দিতে হবে। ডায়বেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তন করার পরও যদি দু-তিন মাস পরে রক্তের কোলেস্টেরল না কমে তাহলে ঔষধ খেয়ে নিয়ন্ত্রন করতে হবে।মনে রাখবেন যাদের পারিবারিক ভাবে রক্তে অধিক কোলেস্টেরল তাদের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রন করাটা খুব কঠিন তাই নিজেকে আরো সচেতন হতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।  ঔষধ খাওয়ার সাথে সাথে জীবনের অভ্যাস পরিবর্তন করত হবে। রক্তের কোলেস্টেরল কমানোর মাধ্যেমে হৃদরোগ, ব্রেইন স্ট্রোক ও কিডনি ড্যামেজের ঝুকি এড়াতে পারেন।
তাই বলবো, নিজেরা স্বাথ্য সচেতন হন অন্যকে সাচেতন করে তুলুন। পৃথিবীটা অনেক সুন্দর তাই এই সুন্দর পৃথিবীতে রোগ মুক্ত হয়ে বেচে থাকবো এটাই প্রত্যাসা।

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget