October 2014

 চুল পড়া রোধে আধুনিক চিকিৎসা
চুল পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রতিদিন একজন মানুষের প্রায় ১০০টি চুল পড়ে। তবে এ প্রক্রিয়া যদি অস্বাভাবিক হয় এবং অধিক আকারে চুল পড়তে থাকে তাহলে দুশ্চিন্তার ব্যাপার। এর চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। প্রথমেই বলে রাখি, বংশগত বা জেনেটিক কারণে চুল পড়ার ক্ষেত্রে হরমোন এবং বয়স একত্রিতভাবে চুলের ফলিকলগুলোকে সঙ্কুচিত করে ফেলে, যা চুলের বৃদ্ধিচক্রকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চুলের সক্রিয় বৃদ্ধি পর্যায় সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে এবং রেস্টিং ফেইস দীর্ঘ হয়, সেহেতু চুলের বৃদ্ধি থেমে যায়। দেখা যায়, মিনোডিঙ্লি ট্রপিক্যাল সলিউশন পার্শ্বীয়ভাবে চুলের ফলিকলগুলোকে বৃদ্ধি করার মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধি পর্যায়কে সংক্ষিপ্ত করে, যা চুলকে লম্বা ও ঘন করতে সহায়তা করে।

এছাড়া এটি রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয় বা চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। মিনোডিঙ্লি টাকের জন্য ব্যবহৃত হয়; কিন্তু এটা ব্যবহারের আগে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আপনাকে সহায়তা করতে পারে।

* আপনার পরিবারের অথবা বংশের কোনো পুরুষ অথবা মহিলার চুল পড়া বা টাকের সমস্যা থাকলে।

* গোসলের সময়, বালিশে অথবা চিরুনিতে আগের চেয়ে বেশি চুল পড়তে দেখলে।

* চুল পড়ার কারণে ফাঁকা হয়ে যাওয়া অংশ ঢাকতে চুলের স্টাইল পরিবর্তন হলে।

যদি উপরে উল্লেখিত দুইবার বা তার বেশি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় তাহলে আপনি বংশগত টাক সমস্যায় ভুগছেন।

মিনোডিঙ্লি ট্রপিক্যাল সলিউশন ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে কেউ কেউ মাথার তালুতে আলতোভাবে চুলকানিজনিত অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। সাধারণত সলিউশনটি ১৮ বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তিদের ব্যবহার করা উচিত নয়।

মিনোডিঙ্লি আসলে একটি ড্রপার বা মিঙ্। এ মিঙ্টি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়। যারা চুলের সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের মাথায় আক্রান্ত স্থানে ড্রপার দিয়ে ১ মিলি করে অথবা ৮ থেকে ১০টি স্প্রে দিয়ে দিনে দুইবার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিদিন সকালে ও রাতে দুইবার মাথায় ত্বকের উপরিভাগে চুলের হারানো অংশে প্রয়োগ করুন। রাতে ঘুমানোর দুই থেকে চার ঘণ্টা আগে ব্যবহার করতে হবে।

অবশ্যই এটা ব্যবহারের আগে মাথা ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। এ প্রক্রিয়ার ফল পেতে চার মাস সময় লাগে।

মিনোডিঙ্লি ব্যবহারের একটি লক্ষণীয় দিক হলো_ রোগী নিজেই অনুধাবন করতে পারে এটা কাজ করছে কিনা, এটা ব্যবহারের দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ীভাবে চুল পড়া কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। এর অর্থ এই যে, চুলের নতুন বৃদ্ধি পর্যায় শুরু হয়েছে, পুরনো চুলগুলো নতুন চুলকে জায়গা করে দিচ্ছে। এর কিছুদিনের মধ্যে অর্থাৎ চার মাস ব্যবহারের পরই নতুন চুল গজাতে থাকবে।

যাদের বংশগত টাক রয়েছে তাদের নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়া হিসেবে নিয়মিত ও রুটিনমাফিক ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে।

মিনোঙ্লি ট্রপিক্যাল সলিউশন ব্যবহার করার পর চুল শুকালে আপনি স্প্রেজেল ও চুল রঙ করাতে পারেন।

এছাড়া কোমল ও সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। তবে সর্বোত্তম চিকিৎসা হচ্ছে মিনোডিঙ্লি ট্রপিক্যাল সলিউশনের সঙ্গে চজচ থেরাপি নেয়া।



ডা. এএসএম বকতিয়ার কামাল

সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

কামাল স্কিন সেন্টার, ০১৭১১৪৪০৫৫৮

কোলেস্টেরল কমাতে আমড়া
চলতি পথের খাবারগুলোর মধ্যে আমড়া অন্যতম। যারা আমড়া পছন্দ করেন তারা জেনে খুশি হবেন, একটি আমড়ায় তিনটি আপেলের সমান পুষ্টি রয়েছে। এ ফলটি কাঁচা-পাকা সবভাবেই খাওয়া যায়। আবার কেউ কেউ এটি রান্না করে কিংবা আচার বানিয়ে খেয়ে থাকেন। যেভাবেই খান না কেন আমড়া শরীরের জন্য বেশ উপকারী। ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ক্যারোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য পরিমাণে প্রোটিন, পেকটিন জাতীয় ফাইবার ও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে আমড়ায়। নিয়মিত আমড়া খেলে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায় এবং স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আমড়াতে থাকা প্রচুর পরিমাণে আয়রন রক্তস্বল্পতায় খুব ভালো কাজ করে এবং এটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ভিটামিন-সি ও ক্যালসিয়াম দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং শরীরের পেশি গঠনে সহায়তা করে। আমড়া ত্বক, নখ ও চুল সুন্দর রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। আমড়া খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হয় এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়, সেইসঙ্গে ঠান্ডা, কাশি ও কফ দূর করে এ ফলটি। তাই আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তত একটি করে আমড়া রাখুন এই ঋতুতে।


যে কোনো খাবারই ঝাল করতে চাইলে প্রয়োজন পড়ে মরিচ। মরিচের ব্যবহারটা সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে মশলা হিসেবে। খাবারকে সুস্বাদু করতে এটা যোগ করা হয়। আবার কাঁচামরিচ চিবিয়ে খাওয়ার রেওয়াজও কম নয়। এ মরিচ নিয়ে অনেক ভিত্তিহীন কথা সমাজে প্রচলিত আছে। যেমন বলা হয়ে থাকে, মরিচ গ্যাস বৃদ্ধি করে এবং যকৃতের সমস্যাসহ পেটের নানা রকম অসুখ সৃষ্টি করে। এছাড়া মশলা হিসেবে এটি বেশি খেলে ত্বকের সমস্যা হতে পারে। যে কোনো কিছুই অতিরিক্ত খাওয়ার অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। প্রচলিত এ কথাগুলো ঠিক নয়। জেনে রাখা ভালো, মরিচের ঝাল দেহে ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি করে থাকে। মরিচের পুষ্টিগুণ খুব কম লোকই জানেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মরিচ হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং ওজন কমানোর জন্যও সহায়ক। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও মরিচ খুব উপকারী। কারণ মরিচ রক্তের চিনি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া মরিচ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে। পিঠব্যথা, বাত এবং এ জাতীয় অন্যান্য রোগের জন্য মরিচ খুব উপকারী। এছাড়া হজমশক্তি বাড়ায়, হাড় মজবুত করে, রক্তে চিনির মাত্রা কমায়, ব্যথানাশক, প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। অনেকে মনে করেন মরিচ খেলে পেটে আলসার হয় ও এটি আলসারের অন্যতম কারণ। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এ তথ্যটি ভিত্তিহীন।


কয়েক দশক ধরে অ্যাজমা এবং দৈহিক স্থূলতার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে উচ্চবর্গের মানুষের মধ্যে। সে কারণেই বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণা ও সমীক্ষা চালানো হচ্ছে এ দুটির মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক আছে কিনা তা খুঁজে বের করার জন্য। দৈহিক স্থূলতা বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে সেসব মানুষের মধ্যে, যারা কায়িক শ্রমের বদলে মানসিক শ্রমে নিয়োজিত থাকেন বেশি এবং খাদ্যাভ্যাসে যাদের রয়েছে নিয়ন্ত্রণহীনতা। অন্যদিকে অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, ইনডোরে অর্থাৎ ঘরের মধ্যে বেশি সময় কাটানোকে, যাতে সে ব্যক্তি ধুলোর জীবাণু, পোষা প্রাণীর বর্জ্য এবং ছত্রাকের মুখোমুখি হচ্ছেন বেশি। সেইসঙ্গে রয়েছে শারীরিক পরিশ্রমের অভাব।

যদিও কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় খুঁজে পাওয়া গেছে, যেগুলো অ্যাজমা ও স্থূলতার আন্তঃসম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করছে। তবে সবচেয়ে বেশি গবেষণা চলছে এ দুটির মধ্যে কোনো জেনেটিক সংযোগ আছে কিনা তা খুঁজে বের করার জন্য। বডি মাস ইনডেক্সের (উচ্চতা ও ওজনের হার) সঙ্গে অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির আন্তঃসম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে বলে কয়েকটি সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

জার্মান গবেষকরা এক সমীক্ষায় অ্যাজমা ও স্থূলতার মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে দাবি করেছেন। তবে তারা স্থূলতা ও অ্যালার্জির মধ্যে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাননি। তারা ধারণা করছেন, অ্যাজমা ও স্থূলতার সম্পর্ক জেনেটিক নয়, বরং শারীরিক। বিশেষভাবে তারা মনে করছেন, স্থূল ব্যক্তির ফুসফুসকে শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য বাড়তি কাজ করতে হয়, ফলে অ্যাজমার সূত্রপাত ঘটে। এ দুই রোগের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কের সূত্র এটাই।

স্থূলতার আরেকটি কারণ শারীরিক ব্যায়ামের অভাব। এটিও অ্যাজমার উৎপত্তিতে ভূমিকা রাখে। ব্যায়ামের সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। ফলে শ্বাসতন্ত্রের গভীরতম অংশগুলোও সঙ্কোচন-প্রসারণে অংশ নিতে পারে। ফলে তারা শক্তিশালী হয়ে ওঠে ও অ্যাজমা প্রতিরোধে সম্ভব হয়।

দুর্ভাগ্যবশত অনেকগুলো কারণ যারা অ্যাজমা ও স্থূলতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তারা আবার পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কখনও কখনও একটি অপরটির প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়। যেমন অনিয়ন্ত্রিত অ্যাজমা ও শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য রোগের কারণে রোগী শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়। তখন এ কায়িক শ্রমহীনতা আবার অ্যাজমার প্রকোপ প্রতিরোধে শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

তদুপরি শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুরা অধিক সময় ঘরে থাকতে বাধ্য হয়, তাদের শরীরের ক্যালরি ঠিক পরিমাণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় বা এর ফলে তাদের স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

স্থূলতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয় অ্যাজমা চিকিৎসায় বিরূপ ভূমিকা পালন করে; তা হচ্ছে, বিষাদ বা হতাশা। যেসব কিশোর-কিশোরী বেশি স্থূল হয়ে যায়, তারা হীনমন্যতায় ভোগে। তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। এ হতাশার কারণে অ্যাজমা আক্রান্ত শিশু ঠিকমতো ওষুধ ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে অ্যাজমার প্রকোপ বেড়ে যায়। আবার এ অ্যাজমার আক্রমণে শিশু ঘরে বন্দি থাকতে বাধ্য হয়। তার শারীরিক ব্যায়াম বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তার আরও মোটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অ্যাজমা এবং স্থূলতার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা, সে বিতর্ক হয়তো আরও কিছুদিন ধরে চলতে থাকবে। এ ব্যাপারে স্থির উপসংহারে পৌঁছানো এখনও সম্ভব হয়নি। তবে এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, শিশুদের মধ্যে ভিডিও গেম ও টেলিভিশন দেখার বেশি বেশি প্রবণতা অ্যাজমা ও স্থূলতা উভয় রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

সহযোগী অধ্যাপক, অ্যালার্জি বিভাগ

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দ্য অ্যালার্জি ও অ্যাজমা সেন্টার

০১৭২১৮৬৮৬০৬

তুলসী পাতার অনেক গুন সুস্থ থাকুন চির দিন
* জ্বর হলে জলের মধ্যে তুলসী পাতা, গোল মরিচ এবং মিশ্রী মিশিয়ে ভাল করে সেদ্ধ করুন৷ অথবা তিনটে দ্রব্য মিশিয়ে বড়ি তৈরি করুন৷ দিনের মধ্যে তিন-চার বার ঐ বড়িটা জলের সঙ্গে খান৷ জ্বর খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে৷

* কাশি যদি না কমে সেই ক্ষেত্রে তুলসী পাতা এবং আদা পিষে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান৷ এতে উপকার পাবেন৷ কাশির জন্য তুলসী পাতার জুরি নেই।
* মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে 4-5 বার তুলসী পাতা চিবান৷
* ঘা যদি দ্রুত কমাতে চান তাহলে তুলসী পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ঘা এর স্থানে লাগান কমে যাবে৷
* শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান এতে জ্বালা কমবে৷ পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে৷ সেখানে কোন দাগ থাকবে না৷
* ত্বকের চমক বাড়ানোর জন্য এছাড়া ত্বকের বলীরেখা এবং ব্রোনো দূর করার জন্য তুলসী পাতা পিষে মুখে লাগান৷
* বুদ্ধি এবং স্মরণ শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন 5-7 টা তুলসী পাতা চিবান৷

অনেকেই যখন শুনতে পান তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তখন ভয়ে খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত ছেড়ে দেন। এমনকি যে কোনো ফল খেতেও ভয় পান। এটি একদমই ঠিক নয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে সব খাবারই খাওয়া যাবে, তবে পরিমাণমতো। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা খাবার নিয়ে বৃথা সংশয়ে না থেকে বুঝে শুনে পরিমাণমতো খান। গবেষণায় পাওয়া যায়, ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর খাবার যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু আদর্শ খাবারও রয়েছে। যে খাবারগুলো উচ্চমানের ফাইবার, অ্যান্টি-অঙ্েিডন্ট ও নানা ভিটামিনে সমৃদ্ধ, সেসব খাবারকেই ডায়াবেটিসের আদর্শ খাবার বলা হয়। মার্কিন একদল গবেষক তাদের গবেষণা শেষে বলেন, উচ্চমাত্রার ফাইবার ও অ্যান্টি-অঙ্েিডন্টযুক্ত খাবার রক্তে কোলেস্টেরল এবং চিনির মাত্রা ঠিক রাখে। সাধারণত বিভিন্ন ফলমূলের মধ্যে উচ্চমাত্রার ফাইবার, অ্যান্টি-অঙ্েিডন্ট ও ভিটামিন থাকে। পেঁপে, আপেল, কমলা, পেয়ারা ও গাজরে এ উপাদানগুলো বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। বিশেষ করে গাজর ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রাকে কমিয়ে আনতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এ ফলগুলোতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক বিটা ক্যারোটিন। এ বিটা ক্যারোটিন দেহে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় এবং রক্তে সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এ ফলগুলো বাদে ব্রকলি ও জলপাইও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ব্রকোলিতে থাকা ক্রোমিয়াম রক্তে সুগারের মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই এ ফলগুলোকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আদর্শ ফল বললেও ভুল হবে না। তাই যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় খাওয়া নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তারা এ ফলগুলো নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget